ব্রেকিং নিউজ
Search

রক্তপাতহীন নির্বাচন কামনায় চট্টগ্রামে ঘরে ঘরে রোজা

101
রক্তপাতহীন নির্বাচন কামনায় চট্টগ্রামে ঘরে ঘরে রোজা

আজ মনে হচ্ছে পবিত্র মাহে রমজানের কোনো একটি দিন। বৃহত্তর চট্টগ্রামের ঘরে ঘরে নারী-পুরুষ রোজা রেখেছেন। আল্লাহর নাম স্মরণ আর জিকির-আজকারের মাধ্যমে নফল ইবাদত করে সময় পার করছেন বৃদ্ধা থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ।

অনেকটা বলা যায়, আজরাইল কোনো ব্যক্তির জান কবজের পর সেই বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা যেমন বার বার কালেমা পাঠ আর আল্লাহর নাম স্মরণ করে কপালে ভাঁজপড়া দুশ্চিন্তার ছাপ নিয়ে সময় পার করেন, ঠিক তেমনই।

আলাপকালে রোজাদাররা জানান, ৩০ ডিসেম্বর রক্তপাতহীন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে যাতে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সুস্থদেহে বাড়ি ফিরতে পারেন এ জন্যই মান্নত করে রোজা রেখেছেন তারা। আগামী ৫ দিন এভাবে রোজা রাখবেন বলেও জানান তারা।

নগরের চকবাজার এলাকায় কথা হয় স্থানীয় আবুল কাশেমের সঙ্গে। তিনি বলেন, তার পরিবারে মা, স্ত্রী, ছেলে- মেয়েসহ ৭ সদস্য রয়েছেন। তার মধ্যে ৫ জনই রোজা রেখেছেন দেশের সাধারণ মানুষের শান্তি ও সুস্থতা কামনায়।

নগরের বহদ্দার হাট এলাকায় কথা হয় চান্দগাঁও আবাসিকের তাওহীদুল ইসলামের সঙ্গে। ব্যাংকার তাওহীদুল ইসলাম বলেন, রাজনীতি কখনও করিনি, এখন আর রাজনীতি নিয়ে কথা বলতেও চাই না। তবে দেশের মানুষ যাতে আর কষ্ট না পান এই জন্য তার পরিবারের চারজন এক সপ্তাহ রোজা রাখার মান্নত করেছেন। শুক্রবার থেকে তারা রোজা পালন শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, রোজায় কিছু অতিরিক্ত বাজার করতে হয়। তাই সকালে তিনি বাজার করতে এসেছেন। তবে আজকের বাজারের সকল ধরনের পণ্যে নির্বাচনী প্রভাব পড়েছে। সকল ধরনের চাল ৪/৫ টাকা বেশি, পেয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে কাঁচা তরিতরকারি ও শাক-সবজির দামও বেড়েছে।

একইভাবে হালিশহর, আগ্রবাদ, ইপিজেড বন্দর, পাহাড়তলী ও দেওয়ানহাট এলাকায় ভোটকে সামনে রেখে রোজা রাখার খবর পাওয়া গেছে।

জেলার হাটহাজারী থেকে আবু শাহেদ জানান, ভোরে হাটহাজারী সদরের বাজারে যেন রমজানের কেনাকাটার ধুম পড়েছে। সকালে তাজা মাছ ও টাটটা শাক-সবজি পাওয়া যায়। তাই সকালেই বাজার করতে চলে এসেছেন অনেকে।

তিনি বলেন, অনেকের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যাতে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন এই জন্য মান্নত করে নফল রোজা রেখেছেন তারা।

একই কথা জানান লোহাগাড়া থেকে আরফাত হোসেন বিপ্লব, চন্দনাইশ থেকে মোজাহের কাদের, পটিয়া থেকে এসএম ওমর পারুক, বাঁশখালী থেকে আনোয়ার সাইফী, ফটিকছড়ি থেকে জুনায়েদ, সীতাকুণ্ড থেকে এস এম ইউসুফ, মিরসরাই থেকে ফিরোজ মাহমুদ।

ওইসব এলাকায় প্রায় ঘরে ঘরে রোজা রাখার খবর পাওয়া গেছে।

Facebook Comments