1. abirnewsroom@gmail.com : Abir Akash : Abir Akash
  2. admin@shadinbangla24.com : স্বাধীনবাংলা24ডটকম : MD NUR
  3. jashimsarkar@gmail.com : jashim uddin : jashim uddin
  4. lakshmipuronline@yahoo.com : কাসেমপণ্ডিত : কাসেম পণ্ডিত
  5. mdmasudrahman1972@gmail.com : মাসুদুর রাহমান : মাসুদুর রাহমান
  6. mitua43@gmail.com : Mosleh Uddin : Mosleh Uddin
  7. mrinalkanti1818@gmail.com : Mrinal Kanti Majumder : নিজস্ব প্রতিনিধি
  8. www.noyonkomar96@gmail.com : নয়ন কুমার : নয়ন কুমার
  9. nurhosseneub@gmail.com : nur hossan : মুহাম্মদ নোমান ছিদ্দীকী
সেদিন ই চাকরি টা ছেড়ে দিতাম। কিন্ত দিতে পারিনি! - স্বাধীন বাংলা24 ডটকম
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
একটি বাড়ি নিয়ে গড়ে উঠেছে একটি গ্রাম! ছাতকে দুইইউপি নির্বাচন সম্পন্ন সিংচাপইড় নৌকা,নোয়ারাই চশমা বিজয়ী ? নোবিপ্রবি লকডাউন ঘোষণা চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলার নিষ্পত্তি চায় এলাকাবাসী বেগমগঞ্জে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল এক কাপড় ব্যবসায়ীর,আহত ২ নোয়াখালীতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার ও চার্জশিট দাখিল কমলনগরে ৩ ইউনিয়নে আ’লীগ প্রার্থী জয়ী ? সাবেক স্বামী মাথা ফাটিয়ে দিল,৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার আলোচিত লক্ষ্মীপুর সংসদীয় আসন-২ রায়পুর উপনির্বাচন নেতাকর্মীদের সতস্ফুর্ত অংশগ্রহণে এড.নয়নের নিরঙ্কুশ বিজয় চাটখিলে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি অস্ত্রসহ গ্রেফতার




সেদিন ই চাকরি টা ছেড়ে দিতাম। কিন্ত দিতে পারিনি!

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ৩৭ বার পড়া হয়েছে

সেদিন ই চাকরি টা ছেড়ে দিতাম ।কিন্ত দিতে পারিনি কারন ছোট বড় যাই হোক চাকরি করে মানুষ অতীব প্রয়োজনে,খুবই শোচনীয় প্রয়োজনে==//

অথচ যুগ যুগ ধরে অফিসের সমস্ত কাজ কালা মিয়া রাই করে যাচ্ছে। কালা মিয়াদের মাথার উপর ফাইলের বোঝা হাজার হাজার বছর ধরে শ্যাম রাজগণ কলমের ফাঁক দিয়ে কালামিয়াদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে। কালা মিয়াদের ডাবল বিএ পাশের বুদ্ধি আর শারীরিক পরিশ্রমের অফিস গুলো আজ ও টিকে আছে।
কালা মিয়া শ্যামরাজ অফিসে চাকরি করে।শ্যামরাজ গুরুতর সমস্যা গুলি কালা মিয়াকে দিত সমাধান করতে।

কালা মিয়ার বাড়ী লন্ডন শহর থেকে দুই দিনে ভ্রমণ পথ।সেখানেই একটি কুঁড়ে ঘরে র বাড়ীতে বসবাস। দুই সন্তান ।সাথে ছোট ভাই সহ পাঁচ জনের সংসার। কোন মত চলে ।ছয়দিনের ছুটি আসলে যেতে আসতে চার দিন বাড়ীতে থাকা পড়ে মাত্র দুদিন।বছরে বিশদিন ছুটি।ছয় মাস পর পর দশ দিন করে হলে ছয় ছয় বার দিন স্ত্রী সন্তানদের সাথে থাকতে পারে।

বাকি সময় সরকারী চাকুরি।সরকারের অফিসে।সরকারের প্রয়োজনে।সহকর্মীদের সাথে।কর্মস্থলের মানুষদের সাথে।দিন যায় অফিসে।রাত কাটে দুশ্চিন্তার আর ফেসবুক, ইউটিউব, মেসেজন্জার ও হোয়াট্সআপ দেখে।

কালামিয়া তার বসের গাড়ি পরিষ্কার করতে সাবান কম দেওয়ায় শাস্তি হিসেবে লন্ডনের দুর্গম এলাকায় তার বদলি করা হয়। কালামিয়া অফিসের কেরানি ডবল বিএ পাস। কেরানি হয়ে বসের গাড়ি পরিষ্কার করবে কেন? তদুপরি বস সিঙ্গেল বিএ পাস। এই প্রতিবাদ করার কারণে কালামিয়ার মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে দেওয়া হয়। কালামিয়া বড় কষ্টে বাঁচার তাগিদে চাকরিরত অবস্থায় আছে।

10000 ডলার বেতনের যে মাসের ছুটি যায় এ মাসে 3000 ডলার যাতায়াত খরচ চলে যায়। কালামিয়ার স্ত্রী একটি 200 সিসি মোটরসাইকেল কিনতে বলে কিন্তু ছেলে মেয়ের খেলনা এবং স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সে ঐ টাকা যোগার করতে পারেনি।

কালামিয়া তার উপরের অফিসারদের বদলি তদবির করে ব্যর্থ হয়। অনেক কষ্টে চাকরি করছে, শুধু টাকার প্রয়োজনে। চাকরি টাকা দিয়ে স্ত্রী সন্তান আর ছোট ভাইয়ের পেটের ভাত হয়। চাকরি করে তো বেতনের জন্য, বেতন দিয়ে কয়েকজনের চাউল, তেল লবন আটা, চিনি,ঘি, মধু এগুলো খেয়ে কালামিয়ার সংসার চলে। কালামিয়ার সংসার ,লোকজন বেঁচে থাকে। কালামিয়া বিদ্রোহ করলে, এই চাকরি ছেড়ে দিলে সে কোন টাকা পাবে না। সবাই না খেয়ে মরবে।

তার স্ত্রীর পরনে কাপড় জুটবে না ছোট ভাইয়ের কলেজের বেতন হবে না, খেলনার জন্য ছেলেমেয়েদের অশ্রু কান্না হবে। নিজের চিকিৎসার ঔষধ পাবে না। পেটের প্রয়োজনে, দৃষ্টি অবলোকনের জন্য, সুন্দর পৃথিবীর একটি সুন্দর দৃশ্য দেখার জন্য, একমুহূর্ত অক্সিজেন গ্রহণের জন্য ,একটু ভালই কাপড় পড়ে মানুষের সামনে অফিসে আসার জন্য, বিকেলবেলা খেলার মাঠে উপস্থিত হওয়ার জন্য, নিজের সন্তানদের হাসিমুখ দেখার জন্য, নিজের ভাইকে পড়াশোনা করে অফিসার বানানোর জন্য, ঘুমানোর আগে খাবারের জন্য, ভাতের আগে চাউল কিনার জন্য ,বেঁচে থাকার জন্য, খাবার খাওয়ার জন্য, খাবার কেনার জন্য, কালা মিয়া আজও চাকরি করে।

এইতো তিনদিন আগেই লন্ডনের দুস্থ: বস্তি কাঙ্গাল দের প্রতিবেদন তৈরি করার দায়িত্ব ছিল কালামিয়ার উপর। দুইশত পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দুই দিনের মধ্যে তৈরির কথা ছিল। কালামিয়ার চারদিন লেগেছে বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুনতে হলো। আর দাঁড়িয়ে থাকতে হলো তিন ঘন্টা।দুইদিন বেশি লাগানো 200 পৃষ্ঠা এর পরিবর্তে আড়াইশো পৃষ্ঠা খরচ করার জন্য কালামিয়ার মাসিক বেতন 10 হাজার ডলারের 5000 কর্তন করে নেওয়া হলো।

অপমান আর তিরস্কার সহ্য করতে না পেরে কালামিয়া তারা অফিস কক্ষে একা একা সেদিন চাকরিটা ছেড়ে দিতে সিদ্ধান্ত নিতে যায়। সেদিনই কালামিয়া চাকরিটা ছেড়ে দেবে। কিন্তু দিল না ।নির্মম ও কঠিন প্রয়োজনে একজন চাকরি করে বলে সে উপলব্ধি করলো।সে বলল
“সেদিন ই চাকরি টা ছেড়ে দিতাম ।কিন্ত দিতে পারিনি কারন ছোট বড় যাই হোক চাকরি করে মানুষ অতীব প্রয়োজনে,খুবই শোচনীয় প্রয়োজনে”

লাঞ্ছনা-গঞ্জনা আর অপমানে চোখের অশ্রু যখন বের হয়ে আসে! কালামিয়ার কল্পনায় ভেসে ওঠে দুটি সন্তানের হাসিমাখা মুখ। তারা বলেছিল এবার ছুটি থেকে আসার সময় 5000 ডলার দিয়ে খেলনা কিনে আনবে। কিন্তু রাগে ,ক্ষোভে, অভিমানে, যদি চাকরিটা ছেড়ে দেয় তাহলে কর্তন বাদে থাকা 5000 ডলার পাবে না। কালামিয়ার স্ত্রী ফোন করে ঔষধ নিয়ে যেতে বলে। কালামিয়ার ভাই ফোন করে কলেজের বেতনের কথা বলে।কালামিয়ার নিজের ঔষধ কেনার সময় এসে পড়ে।

কালামিয়া অফিসে সিদ্ধান্ত নেয় চাকরিটা করতেই হবে। 5000 ডলার শুধু এই মাসে কেন প্রতি মাসে যদি 5আর 5 করে সব কেটে নেয় তবুও জীবনের প্রয়োজনে, হাসির প্রয়োজনে ,অভিসারের প্রয়োজনে, স্ত্রীর প্রয়োজনে, ভাইয়ের প্রয়োজনে ,পেটের প্রয়োজনে, বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ,চাকরিটা তাকে করতেই হবে।

নিয়তির নির্মম পরিহাস। ভাগ্য বড়ই কালামিয়া র এর বিপক্ষে। কালামিয়ার কল্পনা তার বস জেনে যায়। শ্যামরাজের দূরদর্শিতা এত দূরে ছিল যে কালামিয়ার কল্পনার কথাও তিনি জানতে পারেন।
এজন্যই তো তারা কালা মিয়াদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা।
কালা মিয়া র সিদ্ধান্ত জানার পরে অফিসের যত কাজ আছে বস্তায় ভরে কালামিয়ার মাথায় তুলে দিলেন। বললেন অফিসের কাজ শেষে বাসায় গিয়ে এগুলো লিখবে। আর করতে না পারলে আরও আড়াই হাজার ডলার বেতন মাসিক কর্তন করা হবে।

কালামিয়ারা সারারাত সারাদিন অফিসে বাসায় কাজ করতে থাকে। বিনিময়ে কালামিয়া রা তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পায়না। অফিসে এসে তারই সামনে অফিসাররা সুন্দর সুন্দর নাস্তা খায়। কালামিয়া কেরানি বলে অফিসারদের সাথে মিশতে পারে না।

অথচ যুগ যুগ ধরে অফিসের সমস্ত কাজ কালা মিয়া রাই করে যাচ্ছে। কালা মিয়াদের মাথার উপর ফাইলের বোঝা হাজার হাজার বছর ধরে শ্যাম রাজগণ কলমের ফাঁক দিয়ে কালামিয়াদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে। কালা মিয়াদের ডাবল বিএ পাশের বুদ্ধি আর শারীরিক পরিশ্রমের অফিস গুলো আজ ও টিকে আছে।

শ্যাম রাজদের হুমকি-ধমকি আর অহংকার এ কালা মিয়াদের চাকরি লাটে উঠে গেছে। শ্যামরাজ দের মত অফিসার শুধু জানে” কালামিয়া ব্যবস্থা নিন”এই কথা লিখা।
কালা মিয়াদের মত কেরানীরাই লন্ডনের মত শহর আর ইংল্যান্ডের মতো দেশ বাঁচিয়ে রেখেছে। কালা মিয়ারা চাকরি ছেড়ে দিলে চাকরির কোনো সংজ্ঞা জীবিত থাকবে না।
কিন্তু শ্যামরাজ ও তার দোসররা বুঝে গেছে কালা মিয়ারা চাকরি করে কঠিন প্রয়োজনে। নিতান্তই প্রয়োজন মেটানোর জন্য। একেবারেই শোচনীয় প্রয়োজনে কালা মেয়েদের চাকরি টা দরকার। তাই তারা চাকরি করে।

Facebook Comments




আরো পড়ুন




ফেসবুক পেজ






© All rights reserved © shadinbangla24.com
Theme Developed BY Desig Host BD